৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ শুক্রবার || ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম:
সেঞ্চুরি মিস করে ব্যাট ছুড়ে মারলেন গেইল আশা করি, পুলিশ সদস্যরা জনতার পুলিশে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী মক্কায় মসজিদ আল হারামের গেটে ‘গাড়িহামলা’ সালিশি বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা বাচ্চার জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে যৌন নিপীড়নের শিকার মা বন্ধ হচ্ছে করোনা লাইভ বুলেটিন, তথ্য মিলবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১২ দিনেও সন্ধান মেলেনি স্বর্ণ ব্যবসায়ীর টাঙ্গাইল এর বিশেষ অভিযানে ০৬ (ছয়) বোতল বিদেশী মদ উদ্ধারসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ভেঙে পড়লো টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর ব্রিজ টাঙ্গাইলে ডাক্তার পরিচয়ে রোগী দেখেন ক্লিনিক মালিক ধরা পড়লো বহুল আলোচিত মধুপুরের চার হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী সাগর আজ দেশের ৯ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ ম্যানসিটিকে হারিয়ে ফাইনালে আর্সেনাল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ এসপির বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলে চিকিৎসক-শিক্ষার্থীসহ আরও ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত একই পরিবারের ৪ জনকে গলাকেটে হত্যা, আটক ৩ ব্রিজ ভেঙে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক বিলে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন লাল বাদশার দাম ৮ লাখ টাকা
 

পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ এসপির বিরুদ্ধে

টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে থানায় তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তিনি নির্যাতন করে ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. ফরিদ মিয়ার। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদ মিয়া বলেন, গত ১৩ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় এসপি স্যারের বাসায় কাজ শুরু করি এবং দুপুর ১টার দিকে কাজ শেষ করে ফিরে আসি। বিকেল ৪টার দিকে ৫ মিনিটের মধ্যে এসপি স্যার ফোন দিয়ে আমাকে বাংলোতে যেতে বলেন।

আমি বাংলোতে পৌঁছলে আমাকে এসপি স্যার তার বাংলাের দোতলার পূর্ব পাশের রুমে নিয়ে দরজা আটকে দেন। আমাকে বলেন, তুই এই কাজ কতদিন ধরে করিস? আমি অবাক হয়ে বলি, কোন কাজ স্যার? এরপরই আমাকে বেধরক মারপিট, লাথি মারতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, তার ১ লাখ টাকা চুরি হয়েছে এবং এই টাকা আমি চুরি করেছি। আমি অস্বীকার করলে তিনি আমাকে আরাও মারধর করেন। এরপর তিনি থানায় খবর দিলে বিকেল সাড়ে ৫টায় পুলিশের এসআই মাে. আবুল বাশার মােল্লা এসে আমাকে বাংলােতেই জেরা করেন এবং মারধর করেন। এরপর এসআই এবং আরেকজন পুলিশ সিএনজিতে আমাকে মির্জাপুর থানায় নিয়ে যান। থানায় নিয়ে আমার চোখ এবং হাত পিছনে বেঁধে লাঠিপেটা করতে থাকেন। তখন এসআই বাশার আমাকে বলেন, তুমি খারাপভাবে ফেঁসে গেছ, তুমি টাকা না নিলেও তােমাকে ১ লাখ টাকা দিতে হবে, নিলেও ১ লাখ টাকা দিতে হবে। পরে আমাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় উপরে কিছুর সঙ্গে শূন্যে ঝুলিয়ে হাঁটুতে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। এবং বলেন, ১ লাখ টাকা না দিলে তােকে আমি জানেই মেরে ফেলব। এরপর গভীর রাতে আমাকে থানা হাজতে রাখে।

আমি অত্যাচার সইতে না পেরে আমার আত্মীয়দের কাছে কান্নাকাটি করে টাকা জোগাড় করে আমাকে থানা থেকে নিয়ে যেতে বলি। পরদিনও আমার আত্মীয়রা টাকা জোগাড় করতে না পারলে আমাকে নির্যাতন করে। এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এভাবে তিনদিন থানাহাজতে রাখার পর ১৫ মার্চ আনুমানিক বিকেল ৫টায় এসআই বাশার অটোরিকশায় আমাকে মির্জাপুর থানা থেকে পিটিসি, টাঙ্গাইলে এসপি স্যারের রুমে নিয়ে যান। সেখানে আমার মামা আনােয়ার হােসেন, ভাবি রেখা বেগম, স্ত্রী মুক্তা, বাবা ইসমাইল হােসেন, চাচা নিয়ত আলী এবং এসআই বাশারের উপস্থিতিতে ৭০ হাজার টাকা এসপি স্যারের হাতে দেন। তারপর আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এসপির বাংলো থেকে টাকা চুরির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে ফরিদ মিয়া বলেন, ‘আমি চুরি করিনি। আমার কাছ থেকে জোর করে টাকা নেয়া হয়েছে। ক্ষমতার জোরে সব করছে। আমি পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ করেছি। এরপর থেকে এসপি স্যার ও এসআই বাশারের লোকজন নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন আমাকে।’

মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার কথাও বলছেন তারা। আমি ও আমার পরিবার নিঃস্ব, চাকরি নাই। এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমি চুরি না করে অপবাদ নিয়ে বাঁচতে চাই না।

মন্তব্য করুন: