২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ মঙ্গলবার || ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম:
বন্ধ হচ্ছে করোনা লাইভ বুলেটিন, তথ্য মিলবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১২ দিনেও সন্ধান মেলেনি স্বর্ণ ব্যবসায়ীর টাঙ্গাইল এর বিশেষ অভিযানে ০৬ (ছয়) বোতল বিদেশী মদ উদ্ধারসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ভেঙে পড়লো টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর ব্রিজ টাঙ্গাইলে ডাক্তার পরিচয়ে রোগী দেখেন ক্লিনিক মালিক ধরা পড়লো বহুল আলোচিত মধুপুরের চার হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী সাগর আজ দেশের ৯ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ ম্যানসিটিকে হারিয়ে ফাইনালে আর্সেনাল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ এসপির বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলে চিকিৎসক-শিক্ষার্থীসহ আরও ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত একই পরিবারের ৪ জনকে গলাকেটে হত্যা, আটক ৩ ব্রিজ ভেঙে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক বিলে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন লাল বাদশার দাম ৮ লাখ টাকা করোনায় আক্রান্ত এমপি জোয়াহের ঘরকে ঠান্ডা রাখার কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি বিনামূল্যে ফেসবুক ব্যবহারের প্যাকেজে বিটিআরসির নিষেধাজ্ঞা টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বৃক্ষের চারা রোপণ কর্মসূচি কার্যক্রমের উদ্বোধন গলার কাঁটা ৩শ ফুট মির্জাপুরের বংশাই রোড
 

একই পরিবারের ৪ জনকে গলাকেটে হত্যা, আটক ৩

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একই পরিবারের চারজনেক হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে নিহত গণি মিয়ার বড় মেয়ে সোনিয়া বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সোনিয়া উপজেলার কাকরাইদ গ্রামের শামসু মিয়ার স্ত্রী।

মধুপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক কামাল মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন- মধুপুর পৌরসভার মাস্টারবাড়ী এলাকার আবু তাহেরের ছেলে জামাল (৩৫), সালাম (২৭) ও সাইফুল (২৩)।

ওসি তারিক কামাল বলেন, মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি দ্রুতই হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে।

তিনি জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় আনা হয়েছে। তারা সম্পর্কে নিহত গনি মিয়ার শ্যালক।

এর আগে শুক্রবার মধুপুর পৌর শহরের পল্লী বিদ্যুৎ রোডের উত্তর আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনটি কক্ষে মরদেহগুলো পড়েছিল। একটি কক্ষে দুটি এবং বাকি দুটি কক্ষে একটি করে মরদেহ পাওয়া যায়। চারজনকেই গলা কেটে এবং কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- আব্দুল গণি মিয়া (৪৫) ও তার স্ত্রী কাদিরন ওরফে বুচি (৩৭) এইচএসসি শিক্ষার্থী ছেলে তাজেল (১৭) এবং মেয়ে সাদিয়া (৯)।

নিহত গণি মিয়ার শ্যালক জামাল হোসেন বলেন, তার দুলাভাই খুব ভালো মানুষ ছিলেন। নিহত ভাগনে তাজেল ধনবাড়ীর ভাইঘাট কলেজের শিক্ষার্থী।

নিহত গণি মিয়ার চাচা শ্বশুর ও প্রতিবেশী হাবেল মিয়া বলেন, উপজেলার গোলাবাড়ী গ্রাম থেকে এসে প্রায় ৭-৮ বছর আগে গণি মিয়া শ্বশুরবাড়ির কাছে উত্তর আবাসিক এলাকায় ৯ লাখ টাকায় ৬ শতাংশ জমি কিনে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন। নিহত আব্দুল গণি মিয়া মধুপুর পৌর এলাকার পোদ্দারবাড়ী গ্রামে মৃত গাজী মিয়ার ছেলে। তিনি রিকশা-ভ্যান কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন।

তিনি আরও জানান, গত বুধবার (১৫ জুলাই) গ্রামের বাড়ী পোদ্দারবাড়ীতে জমিজমা ভাগ-বণ্টন করতে যান গণি ও তার পরিবারের সদস্যরা। গ্রামে তার এক ভাই ও এক বোন আছে। তবে সেদিন জমি ভাগ-বণ্টন না হওয়ায় পরদিন বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সালিশ বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার নিজ ঘরে তাদের চারজনের গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। তাদের ধারণা জমি সংক্রান্ত বিরোধেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

নিহত গণির গ্রামের বাড়ি মধুপুর পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঈন খান বলেন, নিহত গণি মিয়ার আরও দুই ভাই আছেন। এদের মধ্যে আব্দুর রশিদ নামে এক ভাই মারা গেছেন আর আব্দুল লতিফ নামে আরেক ভাই এখনও গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন। গত সপ্তাহে আব্দুল লতিফের সঙ্গে মৃত আব্দুর রশিদের ছেলেদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তাকে সালিশের কথা বলা হয়েছিল। তবে করোনার কারণে তিনি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেননি।

ঘটনাস্থল মধুপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিউল আলম খান পলাশ জানান, নিহত গণি মিয়া সম্প্রতি এই ওয়ার্ডে বাড়ি করায় তার সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না তিনি। এছাড়াও নিহত গণি মিয়া এই ওয়ার্ডের ভোটার হননি।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ওই বাড়ির তিনটি ঘর থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে একটি কুড়ালও পাওয়া যায়। নিহতদের শরীরে কুড়ালের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি কখন ঘটেছে তা বলা যাচ্ছে না। রুমটি বাইরে থেকে তালাবন্দী অবস্থায় ছিল। কেউ জানতো না এখানে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি। খুব দ্রুতই এর রহস্য উদ্ঘাটন হবে। তদন্ত শেষেই বলা যাবে এটি ডাকাতি না শুধু হত্যা।

মন্তব্য করুন: